মনের প্রকৃতি ও জপের গুরুত্ব  

একবার একটি ভদ্রলোক এক সাধুকে তুষ্ট করেছিল। প্রতিদান হিসেবে সাধু তাকে একটি অতিকায় দৈত্য প্রদান করল এবং বলল, "একে নিয়ে যাও। সে তোমার যেকোনো কাজ করে দিতে পারবে।" কিন্তু সাধু তাকে সাবধান করে দিল, "যদি তাকে অবসরে রাখ,তবে সে তোমার ক্ষতি করবে।"

লোকটি বলল, "আপনি চিন্তা করবেন না। আমার হাজারো কাজ জমা আছে। লোকটি ওই দৈত্যকে সাথে নিয়ে গেল। বাড়িতে গিয়ে তাকে আদেশ করল, "এই হাজার একর জমি চাষ কর।" দৈত্যটি পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফিরে এসে বলল, "প্রভু, আমাকে কাজ দিন।" লোকটি বলল, "আমাকে একটি রাজপ্রাসাদ বানিয়ে দাও।" সে মিনিটের মধ্যেই তা করে ফেলল। এভাবেই সে সব কাজ করে দিচ্ছিল। তখন লোকটি সতর্ক হল, তাকে দেবার মতো আর কোন কাজ নেই। সে সব কাজই খুব দ্রুত করে ফেলে তাই সে কী করতে পারে? সে তাড়াতাড়ি সাধুর কাছে ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, "দয়া করে আমাকে এই দৈত্যের হাত থেকে বাঁচান। এটা আমাকে খেয়ে ফেলল। আমি তাকে আর কোন কাজ দিতে পারছি না।"

সাধুটি তখন বলল,"ওরে মূর্খ! এই মইটি সাথে নিয়ে যা। এটিকে ঘরের কাছে রেখে দৈত্যটি এই মই বেয়ে উপরে নিচে উঠানামা করতে বলবি। যখন কোনো কাজের দরকার পড়বে, তখন ডেকে কাজ দিবি। আর অন্য সময় একে উঠানামা করাবি।" লোকটি এভাবেই দৈত্যটির হাত থেকে বাঁচল।

আমাদের মনও ঠিক এই দৈত্যটির মত। এটি খুবই শক্তিশালী। একাকী এটি শতশত কাজ একসাথে করতে পারে। এটিকে যদি কোন কাজে না লাগানো হয়, তবে এটা আজে বাজে, অপ্রয়োজনীয় ও অবাঞ্ছিত বস্তু নিয়ে চিন্তা করতে থাকে। এই মনরূপ দৈত্যকে কোন মই দেয়া যেতে পারে? এটা হচ্ছে মই সরুুপ নাম।  জপ করা নাম - রাধাস্বামী রাধাস্বামী রাধাস্বামী......................... রাঃস্বা.
আমরা যদি সবসময় এই নাম জপ করি আর ভগবানকে স্মরণ করি, তবে মন আর আমাদেরকে বিরক্ত করতে পারবে না। কারণ, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।  মনকে যদি দিব্যনাম জপ ও ভগবানকে স্মরণ করানোর কাজে লাগানো যায়, তবেই একজন পরিপূর্ণভাবে শান্তি লাভ করবে এবং মন তখন নিজের ও সকলের জন্য ভাল কাজ করতে ব্যাপৃত থাকবে। যদি আমরা সেই শুদ্ধ মন ও শুদ্ধ চেতনা লাভ করতে চাই, তবে আমাদের উচিত সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে সেই দিব্যজ্ঞান প্রচার করা। এভাবেই মনের শান্তি প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি পরোপকারও করা সম্ভব।

জয় গুরু।।

No comments:

Post a Comment

Pages