শ্রীশ্রী ঠাকুর ------ছেলেবেলায় আমি আপন মনে বলতাম , ' পরমপিতা আমি তোমার সন্তান , আমি শুদ্ধ ,বুদ্ধ , শক্তিমান । আমি পাপ, তাপ ,দু্র্ব্বলতার উর্দ্ধে। আমি জ্যোতির তনয় , অন্ধকার আমাকে স্পর্শও করতে পারে না ' ।যখন যেমন মন চায় , তখন তেমন বলতাম , যাতে আনন্দে বুক ভরে ওঠে, অন্তরে আশা , উদ্দীপনা , শক্তি ও সাহস জাগে । একজন বৈষ্ণব সাধু সেইকথা শুনে আমায় বলেছিলেন ---- ওভাবে বলো না, ওতে অহংকার হয় ।বরং বলো --- 'আমি ঘোর পাপী । তুমি নিজগুণে দয়া করে আমাকে উদ্ধার কর।তোমার দয়া ছাড়া আমার মত পাপীর আর কোন পথ নেই।' এই রকম আরো কত কাতরোক্তি। বৈষ্ণব সাধুর কথামত আমিও সেইভাবে রোজ বলতে শুরু করলাম ।ক'দিম বলার পর মনটা black হয়ে গেল,বুকের ভিতর একটা আনন্দের চাঁদ ডগমগ করত,তা ভেঙ্গে গেল,পদে পদে আত্মধিক্কার। আমি যেন মহা অপরাধী। ১৫ দিন ঐ ভাবে করলাম ।করার ফলে আমি নিথর হয়ে গেলাম বুকের মধ্যে কী যেন অসহ্য যন্ত্রণা। বিকেলে পদ্মার পাড়ে গেলাম , সূর্য ডুবছে জল লাল হয়ে উঠছে ।আগে এসব দৃশ্য দেখলেমনটা স্ফূর্তিতে নেচে উঠত।কিনতু সেদিন কোন সাড়া জাগল না। তখন চেচিয়ে বলে উঠলাম -----'পরমপিতা! আমি পাপী নই , আমি অধম নই,আমি দুর্ব্বল নই,আমি তোমারই সন্তান।তোমারই ভাবে ও স্বভাবে পুষ্ট আমি।তুমিই আমার জীবন, তুমিই আমার যথাসর্ব্বস্ব।' পরক্ষনেই আবার পাগলের মত বললাম--- ' আমি ভুল বশে অন্যায় করে থাকতে পারি, কিন্তু আমি তা চাই না,আমি চাই তোমাকে , আমি তোমা বই জানি না।' বলতে বলতে আবার glow ফুটে উঠল।যেন বেঁচে গেলাম ।পাপের কথা বেশি ভাবাও ভাল না,বলাবলি করাও ভাল না।আর, তার আচরণ তো ভালই না।শরীর মনকে otherwise (অন্যভাবে) engaged(ব্যপৃত) রেখে গর্হিত চিন্তা ,বাক্য ও কর্ম scope(সম্ভাবনা) সঙ্কীর্ন করে ফেলতে হয়।তত্ সত্বেও যদি বোঝ অন্যায় করেছ,shake it off(ত ঝেড়ে ফেল), ignoreকর,do the opposite and go on on the way of the father, পরমপিতাকে নিয়ে যত মত্ত থাকবে , ততই শয়তানের নাগালের বাইরে চলে যাবে। যেন তেন প্রকারেন positivelyএইটি করা চাই। একই দোষ পুনঃ পুনঃ করা আর তার জন্য পুনঁ পুনঃ অনতাপ করা ---- এমন তর চলতে থাকলে অনতাপ টা একটা মেকী ব্যাপার হয়ে দাড়ায়।কোন বিষয়ে সত্যিকার অনুতাপ জাগলে মানুষ সে পথে সহজে পা বাড়ায় না।
(আঃ প্রঃ ২৪শে মাঘ , শনিবার ,১৩৫৪) copy pest. শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সতসঙ্গ আশ্রম।

No comments:
Post a Comment